
ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের পর চীন থেকে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাজমিন আক্তার ওরফে লিজা (২০) নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন ওয়্যাং সুলিন (৩০) নামের এক চীনা নাগরিক। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. নুর উদ্দিন।
গত ২১ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে অ্যাফিডেভিট করে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। শুক্রবার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় কনের পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা আয়োজন করা হয়। বিদেশি জামাইকে দেখতে কনের বাড়িতে স্থানীয় মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
নাজমিন আক্তার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা মো. নাজিম উদ্দিন স্থানীয়ভাবে ফার্নিচারের ব্যবসা করেন। তাঁদের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় বসবাস করছেন। অন্যদিকে ওয়্যাং সুলিন চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকে নাজমিনের সঙ্গে ওয়্যাং সুলিনের পরিচয় হয়। নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ১৮ জুলাই ওয়্যাং সুলিন বাংলাদেশে আসেন এবং পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রতারণার বিভিন্ন ঘটনার কারণে শুরু থেকেই সতর্ক ছিল কনের পরিবার। নাজমিনের বাবা জানান, ছেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি চীনা দূতাবাসের মাধ্যমেও তাঁর পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হয়েছে। সব তথ্য সন্তোষজনক পাওয়ার পরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নুর উদ্দিন চীনে ফিরে যাবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে নাজমিনকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চীন থেকে জামাই আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কনের বাড়িতে গিয়ে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলছেন।
কনের পরিবার জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নুর উদ্দিন তাঁর স্ত্রী নাজমিনকে সঙ্গে নিয়ে চীনে ফিরে যাবেন।